আওয়ামী সরকার বিগত সাড়ে ৫ বছর ধরে রাষ্ট্রের পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রায়ই হিটলারি কায়দায় ব্যাপকহারে মূলত সরকারবিরোধী বৃহত্তম গণতান্ত্রিক জোটের রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের কারণে এমনিতেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাইবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, অপহরণ, খুন, গুম, ধর্ষণ, অবৈধ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা পুলিশের মূল দায়িত্ব হলেও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় দাগী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা আরও বেপরোয়া তৎপরতার মাধ্যমে নাগরিক জীবনকে সন্ত্রস্ত ও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে। আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে গ্রেফতার ও ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে একদিকে দেশের প্রায় প্রতিটি কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৩ গুণেরও বেশি কারাবন্দী ঢুকিয়ে কারাগারগুলোতে এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে কারাগারে দাগী অপরাধী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে লালন-পালন ও অপরাধ পরিচালনার সুযোগ দেয়া হলেও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের নিছক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করে ডা-াবেড়ি পরিয়ে ও পুলিশী রিমান্ডে নেয়ার অনেক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে পুলিশ। বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি বা সংশোধনের জায়গা কারাগার যদি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিলারদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়, তাহলে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা লাভের অধিকার থেকে দেশের সাধারণ মানুষ শুধু বঞ্চিতই হয় না, গোটা সমাজকে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার বিভীষিকাময় অন্ধকারও গ্রাস করে। আওয়ামী সরকারের গতবারের শেষ সময়ে এসে জাতীয় সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও সরকারি দলের মদদে এখন চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধীরা আত্মগোপন থেকে বা জামিনে বেরিয়ে নিয়ে এসেছিল বলে প্রকাশিত খবরে দেশ বাসী ও সাধারন মানুষ জানতে পারে। নির্বাচনে ক্যাডারম্যান হিসেবে ব্যবহারের জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের কাছে এই সন্ত্রাসীদের কদর বহুগুণে বেড়ে গিয়েছিল। সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দলবাজি নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মী নামধারীদের সন্ত্রাসী কর্মকা- নিয়ন্ত্রণে বিগত সাড়ে ৫ বছরে পুলিশ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। শাসক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গত সাড়ে ৫ বছর ধরে পুলিশের শক্তি-সামর্থ্যরে প্রায় পুরোটাই রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম দমনে ব্যবহারের নীতি পরিহার করে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, হত্যা, গুম, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে পুলিশের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ও জবাবদিহিতা এখনও নিশ্চিত করা হবে না কেন? কারাগারগুলোকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের শাস্তির জায়গা হিসেবেই দেখতে চায় দেশের জনগণ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জায়গা হিসেবে নয়।
Monday, August 4, 2014
Sunday, July 27, 2014
Nobel Committee Asks Obama “Nicely” To Return Peace Prize
Thorbjorn Jagland,
chairman of the Nobel Peace Prize Committee, said today that President Obama
“really ought to consider” returning his Nobel Peace Prize Medal immediately,
including the “really nice” case it came in.
Jagland, flanked by
the other four members of the Committee, said they’d never before asked for the
return of a Peace Prize, “even from a damnable war-criminal like Kissinger,”
but that the 10% drawdown in US troops in Afghanistan the President announced
last week capped a period of “non-Peace-Prize-winner-type behavior” in
2011. “Guantanamo’s still open. There’s
bombing Libya. There’s blowing bin Laden away rather than putting him on trial.
Now a few US troops go home, but the US will be occupying Afghanistan until
2014 and beyond. Don’t even get me started on Yemen!”
The Committee awarded
Obama the coveted prize in 2009 after he made a series of speeches in the first
months of his presidency, which convinced the Peace Prize Committee that he
was: “creating a new climate of…multilateral diplomacy…an emphasis on the role
of the United Nations…of dialogue and negotiations as instruments for resolving
international conflicts…and a vision of world free of nuclear arms.”
But, he revealed the
committee members were all “legless drunk” the day they voted, as it was the
start of Norway’s annual aquavit-tasting festival. The “totally toasted”
members listened over and over to replays of Obama’s Cairo speech, tearing up
and drinking shots to the glorious future: a black man leading America and the
world into a new era of peace, hope and goodwill. “For a few hours we were all
18 year-old students again at the beautiful, occasionally sunny University of
Bergen! Oh, how we cried for joy!”
The chairman said the committee weren’t “going
to be pills” about getting the Prize back because they still “basically really
liked” Mr. Obama and that sending it back in a plain package by regular mail
would fine if it would save him the embarrassment of a public return. But added
Jagland, “things could get nasty” if the committee didn’t see it by the time
they announce the new Peace Prize winner in the fall. He and the committee then
excused themselves to resume their celebration of Norway’s annual
aquavit-tasting festival. The White House
had no comment. It later announced an aggressive new covert CIA
initiative to identify and apprehend Al Qaeda operatives in Scandinavia.
Collected news from this link
http://worldtruth.tv/nobel-committee-asks-obama-nicely-to-return-peace-prize/
M S RAHMAN
Journalist and Online Activities
Friday, July 25, 2014
এই ভাবে আর কত দিন চলবে..............................।
যেমন প্রকাশে খুন এবং গুম তাদের মধ্যে অন্যতম। মানুষ এখন চুরি ডাকাতি এই
বিষয় এবং দুর্নীতি এই গুলো যে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড সে গুলো ভুলে গেছ। নিয়ন্ত্রন
হীন ভাবে চলতে চলতে এই
গুলো এখন সাধারন
মানুষের কাছে সাধারন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সংবাদিক দম্পতী সাগর রুনি হত্যা হওয়ার পর
মানুষ জাগ্রত হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে এত বড় একটি হত্যা কাণ্ড বাতাশের সঙ্গে মিশে
গেল। যারা এই হত্যা কাণ্ডের বিরদ্ধে আন্দোলন করতে করেছিলেন অন্যান্য সংবাদিকদেরকে
নিয়ে, প্রধানমন্তী শেখ হাসিনা তাদেরকে ভাল পদবী দিয়ে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিলেন।
কিন্তু সবকিছুর পর নারায়ণগঞ্জের
৭ হত্যাকান্ডের
পর সারা
দেশে যে
আলোড়নের সৃষ্টি
হয়েছিল, তাতে
অনেকেই ভেবেছিলেন
অপরাধ জগতের
লোকজন হয়তো
কিছুদিন থমকে
দাঁড়াবে।
কিন্তু তেমনটি
হয়নি।
অপহরণ, হত্যা
ও ছিনতাইয়ের
ঘটনা ঘটেই
চলেছে।
রাজধানীর রাজারবাগে
ফিল্মী স্ট্রাইলে
অস্ত্র ঠেকিয়ে
ব্যবসায়ী গিয়াস
উদ্দিনের ২০
লাখ টাকা
ছিনিয়ে নিয়েছে
দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার সকাল
১০টার দিকে
টেলিকম ভবনের
সামনে এ
ঘটনা ঘটে। ঘটনার
বিবরণে জানা
গেছে, খিলগাঁও
এলাকার বিকাশের
পরিবেশক ২০
লাখ টাকা
নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে
ব্র্যাক ব্যাংকের
মতিঝিল শাখায়
জমা দিতে
যাচ্ছিলেন।
এ সময়
রাজারবাগ টেলিকম
ভবনের বিপরীত
দিকের রাস্তায়
ট্রাফিক সিগন্যালে
পড়েন তারা। সিগন্যালে
থাকা অবস্থায়ই
পেছন থেকে
একটি মোটরসাইকেলযোগে
আসা তিন
যুবক ব্যবসায়ীর
পাশে মোটরসাইকেল
থামিয়ে মাথায়
অস্ত্র ঠেকিয়ে
ব্যাগে থাকা
২০ লাখ
টাকা ছিনিয়ে
এজিবি কলোনির
দিকে চলে
যায়।
এ সময়
তাদের চিৎকার
শুনে দায়িত্বরত
ট্রাফিক পুলিশ
মামুন দুর্বৃত্তদের
মোটরসাইকেল আটকানোর চেষ্টা করলে তারা
এক রাউন্ড
গুলী ছোঁড়ে। পরে
মোটরসাইকেলে তাদের পিছু ধাওয়া করলে
দুর্বৃত্তরা কমলাপুরের দিকে পালিয়ে যায়। এ
সময় ঘটনাস্থলে
অন্য পুলিশ
থাকলেও তারা
ছিনতাইকারীদের ধরতে এগিয়ে আসেনি।
প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মী
স্টাইলে মাথায়
অস্ত্র ঠেকিয়ে
এভাবে টাকা
ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে সহজেই উপলব্ধি
করা যায়
যে, অপরাধ
জগতের লোকেরা
নিয়ন্ত্রিত হয়নি। তাদের অব্যাহত
অপতৎপরতা ও
বেপরোয়া মনোভাবের
রহস্য কী?
এভাবে অপরাধ
তৎপরতা চালিয়ে
যাওয়ার সাহস
তারা কীভাবে
পাচ্ছে? দেশের
জনগণ এজন্য
অভিযুক্ত করছে
পুলিশ-র্যাব, প্রশাসন
ও সরকারকে। এসব
অভিযোগের গুরুত্বকে
স্বীকার করেও
বলতে হয়,
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে
সমাজ ও
সামাজিক সংগঠনেরও
দায়িত্ব রয়েছে। আর
যারা অপরাধ
করে তারা
কোনো না
কোনো পরিবারের
সাথে যুক্ত
আছে।
পরিবারের সদস্যরা
জানার পরেও
যদি অপরাধের
সাথে যুক্ত
ব্যক্তিদের সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
না চালায়,
তাহলে সমাজকে
অপরাধমুক্ত করা খুবই কঠিন ব্যাপার। এখানে
প্রসঙ্গত আরো
বলে রাখা
প্রয়োজন যে,
পরিবার ও
সমাজে যখন
নৈতিক অবস্থা
এমন শিথিল
পর্যায়ে উপনীত
হয়, তখন
প্রশাসন ও
সরকারের দায়িত্ব
বেড়ে যায়। কিন্তু
দুঃখের বিষয়
হলো, আমাদের
সরকার ও
প্রশাসনের আচরণে বোঝা যায় না
যে, তারা
তাদের বাড়তি
দায়িত্বের বিষয়টি উপলব্ধি করতে সক্ষম
হয়েছে।
তবে তাদের
বোধোদয় জনগণের
কাম্য।
পরিশেষে বলা যায় যতক্ষণ না
পর্যন্ত রাজনীতির বৃত্তের উপরে না উঠে আইন জনগণের জন্য কাজ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি প্রতিস্তা হবে না।
আমি মনে করি।
Tuesday, July 22, 2014
৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত ভুমি নিয়ে গেল ভারত। প্রধাম মন্তী সমুদ্র জয় এর ছেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে ।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্দের সময় বাংলাদেশের
মানুষ নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানীদের হাত থেকে বাংলাদেশের ভুমিকে মুক্ত
করেছিল। বিশ্বের মানচিত্রে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র। যে মানচিত্র ছিল
বাংলাদেশের মানুষের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ। কিন্ত রক্তের অর্জিত বাংলাদেশের সে ভুমি নিয়ে
গেল ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্তী পেলেন সমুদ্র জয়। ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তে বিনিময়ে
অর্জিত বাংলাদেশর ভুমি ভারতকে দিয়ে আমরা করলাম সুমদ্র জয়।
এর চেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে। আমাদের
প্রধাম মন্ত্রী বললেন বাংলাদেশ সমুদ্র জয় করেছেন আবার ভারত বলছে তারা সমুদ্র জয়
করেছে।কিন্তু বাস্তবতা হল কোন মামলায় বা খেলায় কখন দুই দল জয় হতে পারে না। এটা
স্বাভাবিক নয়।
প্রিয় পাঠক আসুন আলোচনা করি আসলে কে সুমদ্র
জয় করলো। ভারত না বাংলাদেশ।
সমুদ্রে সীমানা এবং দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের
মালিকানাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বিরোধ চলছিল তার ‘মীমাংসা’ হয়েছে। দীর্ঘ শুনানির
পর গত সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের আকারে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক সালিশী আদালত
(পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন)। নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগ-এ অবস্থিত
আদালতের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে একজন ভারতীয় বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করলেও বাকি
চারজনের অভিমতই সালিশী আদালতের রায় হিসেবে গৃহীত ও ঘোষিত হয়েছে। এ রায় সম্পর্কে
জানানোর জন্যই মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল
হাসান মাহমুদ আলী। তার ঠিক বাম পাশে ছিলেন আকাশে ওড়ার রেকর্ড সৃষ্টিকারী সাবেক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আয়োজন
দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, শেখ হাসিনার সরকার কোনো বড় ধরনের ‘সাফল্য’ অর্জন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় এ সাফল্য ছিল আবারও ‘সমুদ্র জয়’। কিছুদিন আগে
মিয়ানমারের সঙ্গে ‘জয়ী’ হওয়ার কথাটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী মাহমুদ আলী। তাকে সমর্থন
যুগিয়েছেন পাশে বসা দীপু মনি। নিজেদের সাফল্য ও সমুদ্র জয় সম্পর্কে জানাতে গিয়ে
তারা সালিশী আদালতের দেয়া রায়ের মূলকথাগুলো তুলে ধরেছেন। এতে দেখা গেছে, ভারতের সঙ্গে বিরোধ
ছিল প্রায় ২৫ হাজার ৬০২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে। সালিশী আদালতের রায়ে
বিরোধপূর্ণ ওই এলাকা থেকে বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার
এলাকা। এর ফলে বাংলাদেশের মোট সমুদ্র সীমা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ
কিলোমিটার। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সালিশী আদালতের এ রায়ের ফলে বিরাট টেরিটোরিয়াল সমুদ্র এলাকা ছাড়াও দুইশ
নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল
মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণীজ ও অপ্রাণীজ সম্পদের ওপর
বাংলাদেশের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি বিবৃতি হিসেবে সঠিক মনে হলেও
তথ্য-পরিসংখ্যানগুলোর সত্যতা সম্পর্কে জানার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে দেশপ্রেমিক কোনো মহলই কিন্তু
রায়টিকে সরকারের মতো সমুদ্র জয় মনে করতে পারেননি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক
পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তো বলেছেনই যে, এই রায়ের মাধ্যমে
সমুদ্রে ভারতের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ ‘জয়’ করে থাকলে করেছে ভারত।
এখানে আওয়ামী লীগ সরকারের উল্লাস করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। কারণ, বিশেষ করে দক্ষিণ তালপট্টি
দ্বীপের মালিকানা না দিয়ে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে সর্বাত্মকভাবে। উল্লেখ্য, তিন দশকের বেশি সময়
ধরে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর
¯্রােতের গতিপথ নিয়ে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধ ও মতপার্থক্য চলছিল। বাংলাদেশ দাবি করেছে, মধ্যস্রোতের হিসাবে
হাড়িয়াভাঙ্গার প্রবাহের পশ্চিম তীরের স্রোতই দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপকে সৃষ্টি
করেছে। এই বক্তব্যের সমর্থনে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে নকশা, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান
তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য হলো, হাড়িয়াভাঙ্গার পূর্ব তীরের স্রোতই বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত মূল স্রোতধারা। তাই
দক্ষিণ তালপট্টি বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমায় পড়ে না। এটা ভারতেরই আওতাভুক্ত। বিষয়টি
নিয়ে ভারত বছরের পর বছর সময় নষ্ট করেছে। এমনকি ২০০৮ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছরে ভারত
বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসেনি। ভারতীয়দের অবস্থানে পরিবর্তন ঘটেছিল জাতিসংঘের
সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সনদ ঘোষিত হওয়ার পর। এই সনদে জাতিসংঘ বলেছিল, বাংলাদেশকে ২০১১ সালের
২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এবং ভারতকে ২০০৯ সালের ২৯ জুনের মধ্যে গভীর ও বহির্সমুদ্রসীমা
সম্পর্কে নিজ নিজ দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমুদ্রতট থেকে
বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে প্রত্যেক দেশ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দাবি করতে
পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সীমানায় সার্বভৌম অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার
ব্যাপারে কোনো সরকারই উদ্যোগ না নেয়ায় বাংলাদেশ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ দক্ষিণ
তালপট্টি, নিউমুর এবং পূর্বাশা দ্বীপের ওপর নিজের দাবি ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে
পারেনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বৈঠকে সব সময়
দুটি বিষয় প্রাধান্যে এসেছে। প্রথমটি হলো, কোন কেন্দ্রবিন্দু বা স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে নিজস্ব সমুদ্র সীমা ধরা হবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর প্রবাহ সম্পর্কিত। উল্লেখ্য, হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর
প্রবাহের সঙ্গে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানার প্রশ্ন সরাসরি সম্পর্কিত।
এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, দক্ষিণ তালপট্টি ও
ভারতীয় ভূখ-ের মাঝামাঝি নতুন ক্ষুদ্র দ্বীপ এবং বাংলাদেশের রায়মঙ্গল নদীর মুখে
উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত দ্বীপÑ এই তিনটি ভূখ- হাড়িয়াভাঙ্গা ও রায়মঙ্গল নদীর প্রবাহকে পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে
তুলেছে। দক্ষিণ তালপট্টি হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর গতিধারায় অবস্থিত নয়। দ্বীপটি নদীর
পূর্বদিকে এবং রায়মঙ্গল নদীর স্রোতধারার পশ্চিম পাশে অবস্থিত। যেহেতু ভারত ও
পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণকারী র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর
মধ্যস্রোত বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত হিসেবে চিহ্নিত ও স্বীকৃত, সেহেতু দক্ষিণ
তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ বা প্রশ্ন থাকতে পারে না। এটা অবশ্যই বাংলাদেশের।
কিন্তু ভারত শুধু বাংলাদেশের মালিকানা অস্বীকার করে এবং দক্ষিণ তালপট্টির ওপর
নিজের মালিকানার দাবি জানিয়েই থেমে থাকেনি, বিভিন্ন উপলক্ষে দ্বীপটি নিয়ে যৌথ জরিপের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে।
শেষ পর্যন্ত ‘জয়’ও করেছে ভারতই। আপত্তি ও উদ্বেগের কারণ হলো, শুধু তেল-গ্যাস নয়, সমুদ্রের তলদেশে অন্য অনেক সম্পদও রয়েছে। সুতরাং বিশেষ করে বাংলাদেশের
অবিচ্ছেদ্য অংশ দক্ষিণ তালপট্টিকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েও যারা সাফল্যের দাবি
জানাচ্ছেন তাদের সঙ্গে একমত হওয়া যায় না। আমরা বরং মনে করি, রাষ্ট্রীয় জীবনের অন্য
অনেক বিষয় ও ক্ষেত্রের মতো সমুদ্র সীমা ও দক্ষিণ তালপট্টির প্রশ্নেও ভারতের
সেবাদাসগিরি করা হয়েছে কি না সে ব্যাপারে দেশপ্রেমিকদের উচিত অনুসন্ধান করার
উদ্যোগ নেয়া এবং সরকার ও ক্ষমতাসীনদের মধ্যকার কোনো গোষ্ঠী ভারতের পক্ষে ভূমিকা
পালনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। কারণ, যে কোনো ব্যাখ্যায় এটা
রাষ্ট্রদ্রোহিতা পর্যায়ের গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকা-ের কারণেই আমাদের সমুদ্র
এলাকা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে এবং বিরাট এলাকা বেদখল হয়ে গেছে। আমাদের জাতীয় সম্পদও
লুণ্ঠিত হচ্ছে যথেচ্ছভাবে। সুতরাং সরকারের উচিত তথাকথিত সাফল্যের ঢেঁকুর তুলে
জনগণকে বিভ্রান্ত করার পরিবর্তে একদিকে সঠিক তথ্য জানানো এবং অন্যদিকে বিশেষ করে
দক্ষিণ তালপট্টির মালিকানা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে দ্রুত সচেষ্ট হয়ে ওঠা। কারণ, প্রশ্ন এখানে জাতীয়
স্বার্থের এবং সার্বভৌমত্বেরও।
Subscribe to:
Posts (Atom)

.jpg)


